করোনার জন্য সঠিক উদ্যোগ না নিলে অবস্থা ভয়াবহ হয়ে পড়বে

স্বাস্থ্য

এই বিষয় আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগের ।  করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কয়েক দিন ধরে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে  । সংক্রমণের সংখ্যা  ও পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার হার দুটোই ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।এটা দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে যারফলে অনেক লোকেরা এতে আক্রান্ত  হচ্ছে ।

এখন যে সংক্রমণ হচ্ছে, আমাদের তিনটি বিষয় ভাবাচ্ছে। প্রথমত,  কিছু মাস ধরে  সামাজিক সম্মিলন অনেকভাবে বেড়েছে। সামাজিক মেলামেশা বেড়েছে তার সাথে করোনা সংক্রমণও বেড়েছে । অনেক পৌরসভায় নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করেছে,সেখানে সংক্রমণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তারপর ব্যক্তিগতভাবে বিয়ে, বন্ধুবান্ধবের মিলিত হওয়া, স্থানীয় পর্যটন রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। কারও মধ্যে সংক্রমণ থাকলে তা আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে ।

দ্বিতীয়ত, এই ভাইরাস, সংক্রমণের বৈশিষ্ট্য, যেমন দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে ,কম বয়সীদের আক্রান্ত  করছে ,তাদের জটিলতার মাত্রা অধিক হয়ে পড়েছে . —এগুলো ইউকে (যুক্তরাজ্য) ভেরিয়েন্টের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায়। ইউকে থেকে অনেক অভিবাসী মানুষ এসেছেন, যাঁদের ক্ষেত্রে পৰ্যাপ্ত কোয়ারেন্টিন মানা হয়নি। কখনো চার দিন, সাত দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে,যেখানে ১৪ দিন হওয়ার কথা। ইউকে ভেরিয়েন্ট অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পরেছে । আমাদের দেশে সীমিত আকারে যে জেনোম সিকোয়েন্সিং হয়েছে, সেখানে এই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি রয়েছে। জানুয়ারিতে ভ্যারিয়েন্ট আসার পর দেশে (সরকারের পক্ষ থেকে) কোনো ঘোষণা আসেনি। এই মার্চের পর থেকে ১৮ দফা ছাড়া বড় কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার ফলে এই ভাইরাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে গেছে। আজ যে পাঁচ হাজার শনাক্ত পাওয়া গেছে, এটা কয়েক গুণ করলে যে সংখ্যা পাওয়া যাবে, সেটা অত্যন্ত ভয়ানক। যেমন অনেকে সংক্রমণ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছে না । সংক্রমণের লক্ষণগুলোও এক রকম না। যেমন যদি কারো শ্বাসকষ্ট থাকা সত্ত্বেও বুঝতে পারছেন না। এটা আমাদের কাছে আশঙ্কার বিষয় বলে প্রতিফলিত হচ্ছে।বাংলাদেশে আজ সর্বোচ্চ সংক্রমণ।

গতকাল বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে ভারতে। আমরা অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের স্বাভাবিক দিনকাল নষ্ট হতে যাচ্ছে। আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থায় বিপর্যয়কর অবস্থার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।ডাক্তার-নার্সরা এখন ক্লান্ত। এ অবস্থায় যদি এটা হ্রাস করতে না পারি, তাহলে সামনে খারাপ অবস্থা দেখা দিতে পারে। এখানে এমন কিছু জিনিস আছে যা কাজ করবে না। আমাদের যে পরিস্থিতি তাতে ‘স্বাস্থ্যবিষয়ে জরুরি অবস্থা’ঘোষণা করতে হবে এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে প্রধান করে করোনা মোকাবিলা কমিটি গঠন করা উচিত, যে কমিটি প্রভূত ক্ষমতা নিয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। স্বাস্থ্যবিষয় জরুরি অবস্থাগুলোর মধ্যে তারা দোকান, রেস্তোরাঁ, অফিস বন্ধ করার ক্ষমতা রাখবে।

চলাচল সীমিত রাখার ক্ষমতা রাখবে এবং যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্যসেবা দান বা রোগী ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করতে আদেশ দিতে পারবে। তারা এই সমস্যা মোকাবিলায় জরুরি অর্থের থোক বরাদ্দ পাবে এবং বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের করোনা মোকাবিলায় নিয়োজিত রাখার ক্ষমতা রাখবে। যেকোনো কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন সেন্টার, হোটেল বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে খণ্ডকালীন বা অস্থায়ী হাসপাতাল, কোয়ারেন্টিন সেন্টার বা আইসোলেশন সেন্টারে রূপান্তর করার ক্ষমতা রাখবে।আমরা যদি রোগী শনাক্ত করতে পারি, সংক্রমণের সম্ভাব্য সময়কালে আইসোলেশনে রাখতে পারি, তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে পারি, তাঁদের কোয়ারেন্টিনে রাখতে পারি, তাঁদের মধ্যে যথার্থ পরীক্ষা করতে পারি, রেড জোন এলাকায় চলাচল সীমিত রাখতে পারি এবং বাইরে থেকে প্রয়োজনে বিমান বন্ধ রাখা এবং বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের অত্যাবশ্যকীয়ভাবে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখতে পারি, পাশাপাশি সব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এই করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রমে যুক্ত করে একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা যায় তাহলে কেবল করোনার ভয়াবহ থাবা থেকে আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করতে পারব।

2 thoughts on “করোনার জন্য সঠিক উদ্যোগ না নিলে অবস্থা ভয়াবহ হয়ে পড়বে

    1. খুবই সুন্দর তথ্য ভিত্তিক লেখা। এগিয়ে যেতে হবে।

কমেন্ট করুন