বাগেরহাটে ভোলা নদী ও চর দখলের অভিযোগ: চন্দ্র মহল ইকোপার্ক মালিকের বিরুদ্ধে

সারাদেশ

মেহেদী হাসান – রামপাল(বাগেরহাট) সংবাদাতা।। বাগেরহাটের ভোলা নদী ও তার বিপুল পরিমানের চর দখল করেছে রনজিৎপুর গ্রামের বেসরকারী বিনোদন কেন্দ্র চন্দ্র মহল ইকোপার্ক কর্তৃপক্ষ। নদীর প্রবাহমান গতি চরম ভাবে বাধাগ্রস্থ করে বৃহৎ আকারের সিমানা প্রচীর নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষকদের পানি নিষ্কাশনে বাধা হওয়ায় একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদনে ভোগান্তি হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে এলাকাবাসি পানিবন্ধী হয়ে পড়ায়, দারুন ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে এলাকাবাসি।

এদিকে ভুমিদস্যু ওই ইকোপার্কের মালিক সৈয়দ আমানুল হুদা সেলিমের হাত থেকে সরকারী নদী ও নদী সংলগ্ন চর ভরাটি জমি উদ্ধারে সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ চেয়েছে এলাকার সাধারন জনগণ।স্থানীয়রা জানান, বাগেরহাট সদর উপজেলার ১১৫ নং রনজিৎপুর মৌজায় ১ নং দাগে ভোলা নদীর চর ভরাটি বিপুল পরিমান জমি জোর পূর্বক দখলে রেখে চরম জন ভোগান্তি সৃষ্টি করেছেন।

হাকিমপুর হইতে সোনাতুনিয়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা হতে চাষাবাদের জন্য জমিতে জাওয়ার সরকারী জমি ভুমিদস্যু সেলিম এর দখলে থাকায় চন্দ্র মহল ইকোপার্কের পিছনে থাকা জমির মালিক, কৃষকদের তাদের চাষাবাদের জমিতে যেতে হলে প্রায় দুই কিঃমিঃ বেশি পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে এতে একদিকে যেমন কৃষি পণ্য বা ফসল উৎপাদনে ব্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে অপর দিকে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করণে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি। এনিয়ে গত ৬ মে ২০১২ তারিখে খানপুর ইউনিয়নের তৎকালীন মরহুম চেয়ারম্যান মো.আমির আলী তরফদার দখলমুক্ত করতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর ১টি আবেদন করেন। তবে রহস্যজনক কারনেঅভিযোগের ৯বছর পার হলেও সেই আবেদনটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসি জানান, ভোলা নদীর জায়গা দখল করে ছোট্ট ছোট্র ঝুপড়ী ঘর নির্মাণ করে সেখানে অসামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ চরম ভাবে নষ্ট হচ্ছে। তারা অতিদ্রুত নদীর জায়গা হতে অবৈধ ঝুপড়ী ঘর গুলি উচ্ছেদের জোর দাবী করেছেন।স্থানীয় ইউপি সদস্য সঞ্জয় কুমার দাস বলেন,সরকারী জমি দখল হয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসির চলাচলে চরম অসুবিধা হচ্ছে। তিনি এ ভোগান্তি লাঘবে সবার সহযোগীতা চেয়েছেন। খানপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দিন বলেন,উক্ত সরকারী জমি দখলমুক্ত হলে স্থানীয়রা ব্যাপক উপকৃত হবেন ।

এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. রাশেদ বলেন,আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। তবে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।চন্দ্র মহল ইকোপার্কের মালিক সৈয়দ আমানুল হুদা সেলিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে চন্দ্র মহল ইকোপার্কের ম্যানেজার মহব্বত আলী চাকলাদার বলেন, আমি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি নই।

কমেন্ট করুন